বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

নারীদের সন্তান ধারনে অনীহা, দক্ষিণ কোরিয়ায় দ্রুত কমছে জনসংখ্যা

বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বুধবার প্রকাশ করা এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্মহার প্রতি নারীতে মাত্র ০.৮১-তে নেমে এসেছে। যেখানে গত বছরও এই হার ছিল ০.৮৪%।

২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো দেশটিতে নারীপ্রতি জন্মহার ১-এর নিচে নেমে আসে। উন্নত বিশ্বে নারীপ্রতি জন্মহার দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে বেশি- ১.৬ শতাংশ। ২০২০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথমবারের মতো জন্মহারের থেকে মৃত্যুহার বেশি ছিল। সে সময়ই দেশটির কর্তৃপক্ষ শঙ্কিত হয়ে পড়ে।

অভিবাসী ছাড়া যদি কোনো দেশ তার জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে চায়, তাহলে সে দেশের প্রত্যেক দম্পতিকে দুটি (২.১টি) সন্তান নিতে হয়। কিন্তু গত ৬০ বছর ধরেই উন্নত দেশগুলোতে তার চেয়ে কম জন্মহার দেখা যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার বাস্তবতা আরো কঠিন।

দেশটির রাজনীতিবিদরা বছরের পর বছর ধরেই জানতেন এমন পরিস্থিতি আসছে, কিন্তু তারা এই নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুই করতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে সন্তান ধারণের জন্য সাধারণ কোরীয়দের বোঝাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ; কিন্তু দেখাই যাচ্ছে, এতে কাজ হয়নি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কমতে থাকা জনসংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ব্যাপক চাপের সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি, জনসংখ্যা অনুপাতে পেনশনের চাহিদা বৃদ্ধি ছাড়াও যুব জনসংখ্যার ঘাটতির ফলে শ্রমিকের সংকটও দেখা দিতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা যদি এভাবে ক্রমাগত কমতে থাকে, তবে এর অর্থনীতি সচল রাখতে, এর বৃদ্ধ জনসংখ্যার দেখাশোনা করতে এবং সেনাবাহিনীতে নিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত লোক পাওয়া যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক চাপ, বাড়ির দাম বাড়ার ফলে দক্ষিণ কোরীয় নারীরা সন্তান নিতে চাইছে না। দক্ষিণ কোরিয়ায় শিশুদের লালন-পালন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ ছাড়া অনেক তরুণ আবাসন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে সন্তানের বাবা-মা হওয়া তাদের জন্য অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতো।

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার নারীরা উচ্চশিক্ষিত, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে তারা পুরুষের সমান নয়। এমনকি পুরুষের সমান বেতনও তারা পাননা। যেকোনো ধনী দেশের তুলনায় দেশটিতে পুরুষ ও নারীর বেতনের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ কোরিয়ার বেশির ভাগ গৃহস্থালির কাজ এবং শিশু যত্ন এখনও নারীদের হাতে। শিশুদের জন্মের পর তাদের দেখাশোনা করতে মায়েদের বাইরে কাজ বন্ধ করে দেয়া কিংবা চাকরি ছেড়ে দেয়া খুবই সাধারণ ঘটনা।

দক্ষিণ কোরিয়ার অধিকাংশ নারীকেই পেশাগত জীবন কিংবা স্বামী-সন্তান-পরিবারের যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়। অনেক নারীই পরিবার গঠনের জন্য ক্যারিয়ারকে বিসর্জন দিতে চান না। একই কারণে তাদের সন্তান জন্মদানেও অনীহা বেড়েছে। অথচ সত্তরের দশকেও এমনটা ছিল না। সে সময় দক্ষিণ কোরীয় নারীদের গড়ে চারটি করে সন্তান থাকত।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com